Sunday, April 17, 2016

বাংলাদেশ হারালো তার শ্রেষ্ঠতম নাগরিককে


রবিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৬, ০৪:১৪:১৪ 

মসজিদে নববীর ইমামের ইন্তেকাল; বাংলাদেশ হারালো তার শ্রেষ্ঠতম নাগরিককে

মসজিদে নববীর ইমামের ইন্তেকাল; বাংলাদেশ হারালো তার শ্রেষ্ঠতম নাগরিককে
ড. ক্বারী মুহাম্মদ আইয়ূব ইবনে মুহাম্মদ ইউসুফ (রহ.)
মসজিদে নববীর জ্যেষ্ঠ ইমাম ড. ক্বারী মুহাম্মদ আইয়ূব ইবনে মুহাম্মদ ইউসুফ ইবনে সুলাইমান উমর (রহ.) আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আজ শনিবার বাদ ফজর তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
বাদ জোহর মসজিদে নববীতে ক্বারী মুহাম্মদ আইয়ূবের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে মসজিদে নববীর পাশে বিখ্যাত কবরস্থান জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
মুহাম্মদ আইয়ূব ছিলেন নিপীড়িত মুসলিম জাতি রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত একজন বিশ্বখ্যাত ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি হানাফী মাজহাবের অনুসারী সুন্নী মুসলিম ছিলেন।
পবিত্র মক্কায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি আমৃত্যু বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ছিলেন। এ হিসেবে বাংলাদেশ তার শ্রেষ্ঠতম নাগরিককে হারালো আজ।
মুহাম্মদ আইয়ূব ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ১৯৬৫ সালে তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজ হন। তার উস্তাদ ছিলেন মক্কার বিন লাদেন মসজিদের খলিল ইবনে আবদার রহমান আল ক্বারী (রহ.)।
১৯৬৬ সালে মক্কায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মুহাম্মদ আইয়ূব উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য মদীনায় চলে যান। 
১৯৭২ সালে তিনি মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শরীয়া অনুষদ’ থেকে স্নাতক ডিগ্রী নেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পবিত্র কুরআন ও ইসলামিক শিক্ষা অনুষদ’ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন। এখানে তিনি তাফসির ও উলুমুল কুরআনের উপর বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি কুরআনের উপর ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন করেন। পরে মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন।
তিনি মদীনায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন উস্তাদের কাছে তফসির, হাদীস এবং হাদীস শাস্ত্র, চার মাজহাবের ফিকাহ ও উসুল সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান অর্জন করেন।
মুহাম্মদ আইয়ূব বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেন তার অতুলনীয় কুরআন তেলাওয়াতের কারণে। জীবিতদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে সহীহভাবে ও সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সুরে তেলাওয়াত করতে পারতেন, যা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করে।
তিনি ১৯৯০ সালে পবিত্র মসজিদুন নববীর ইমাম পদে নিয়োগ পান। তিনি এ পদে ছিলেন ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। এছাড়া তিনি মসজিদুল হারামেও রমজান মাসে তারাবীর নামাজের ইমামতি করেছেন।
এরপর তিনি সৌদি, কুয়েত ও আরব আমিরাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মসজিদে ইমামতি করেন।
এরমধ্যে সৌদি আরবে রয়েছে-মদীনার মসজিদে কুবা, মসজিদ আহম ইবন হাম্বল, মসজিদ হাসান আশ শাইর, মসজিদ আবদুল্লাহ আল হোসাইনি, মসজিদ আল ইনাবিয়া; মক্কার মসজিদ বির আল ওয়ালিদায়ান; জেদ্দার মসজিদ আশ শুয়াইবি, মসজিদ আবনা হাফিজ, মসজিদ আয়েশা, মসজিদ আল লামি ও রিয়াদের মসজিদ আল ইহসান।
কুয়েতের আল আরিদিয়ার মসজিদ আস সাবাহ ও কুয়েত সিটির গ্রান্ড মসজিদ।
আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ মসজিদ।
গত বছর আবার মসজিদুন নববীর ইমাম পদে ফিরে আসেন মুহাম্মদ আইয়ূব। গত রমজানে তারাবির নামাজ পড়ানোর সময় অসুস্থ হয়ে তিনি স্মৃতি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সম্প্রতি মুহাম্মদ আইয়ুব বলেছিলেন, মহান আল্লাহ আমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়ার আগে একবারের জন্য মসজিদে নববীতে এক ওয়াক্ত নামাজ পড়াইতে চাই, এটাই শেষ ইচ্ছা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক থেকে জানা গেছে, অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী মুহাম্মদ আইয়ূব শুক্রবার রাতে মসজিদে নববীতে এশার নামাজ পড়ান। পরে শনিবার বাদ ফজর তিনি ইন্তেকাল করেন।
ক্বারী মুহাম্মদ আইয়ূবের ইন্তেকালের খবরে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Sunday, October 11, 2015

রইস খানের দূর্দান্ত আবিষ্কার : পেট্রোল নয়, গাড়ি চলবে পানিতে (ভিডিও সহ)

https://www.youtube.com/watch?v=aFxg70WUG-0


পেট্রোল-ডিজেলের মতো জ্বালানিতে নয়, গাড়ি চলবে পানি দিয়েভাবছেন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলার বা গবেষক এমনটা আবিষ্কার করলেন?

না, তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক বা কোনো বড় অটোমোবাইল সংস্থার কর্মকর্তাও ননতার নাম মোহাম্মদ রইস খানভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার এক মোটর মেকানিক
দিনরাত এক করে এতোদিন তিনি গবেষণায় নিযুক্ত ছিলেন, কী করে পানির সাহায্যে গাড়ি চালাবেনআশেপাশের গ্রামের লোক তাকে নিয়ে কম টিপ্পনী করেনিপানিতে গাড়ি চলতে পারে- ভাবাটা তো আর স্বাভাবিক নয়কিন্তু অধ্যবসায় অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেযেমনটা করে দেখিয়েছেন রইজ

সংবাদসংস্থা এ এন আই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রইস এখন অপেক্ষা করছেন পেটেন্ট পাওয়ারআবেদন ইতোমধ্যেই করা হয়ে গেছে
রইসের বক্তব্য, পেট্রোল-ডিজেলের মতো জ্বালানির বদলে পানি ও ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করে তার নির্মিত গাড়ি অন্যান্য গাড়ির মতোই চলতে পারবেএর ফলে জ্বালানির খরচ ও দূষণ কমে অর্ধেক হয়ে যাবে বলে দাবি তার

Tuesday, September 29, 2015

নতুন বিদ্যুৎ যন্ত্র উদ্ভাবন: খরচ ২০ পয়সা

নতুন বিদ্যুৎ যন্ত্র উদ্ভাবন: খরচ ২০ পয়সা


সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুরের মো. জালাল উদ্দিন। এক মধ্যবিত্ত পরিবারের কনিষ্ট সন্তান। ছোটবেলা থেকে তিনি একটু দুরন্ত প্রকৃতির ছিলেন। সব সময়ই নতুন কিছু আবিষ্কারের চেতনায় থাকতেন তিনি। সেই লক্ষ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার প্রবল ইচ্ছে ছিল তার। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। তবুও থেমে নেই তিনি। ১৯৯২ সালে শাহজাদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর জীবিকার সন্ধানে ১৯৯৩ সালে রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেন। 
এরপর চাকরিরত অবস্থায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। আর তাতে তার আবিষ্কারের অবচেতন মন আবারও জেগে ওঠে। এরই মধ্যে তিনি দেশের মানুষের বড় সমস্যাগুলো খুঁজে বের করেন। আর সেই সমস্যার মধ্যে তিনি বেছে নিলেন বিদ্যুৎ সমস্যা। তখন থেকে কীভাবে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় সেই চিন্তায় মেতে উঠলেন তিনি।
0অবশেষে সফল হলেন তিনি। উদ্ভাবন করেছেন নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র। যার নাম দিয়েছেন তিনি ‘ফেরাল জিম’। আর তার এ আবিষ্কৃত যন্ত্রটি দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উতপাদন খরচ পড়ছে মাত্র ২০ পয়সা। তিনি এ যন্ত্রটি আবিস্কার করে একটি ছোট প্রকল্প করেছেন নাটোরের বড়াইগ্রামে। প্রকল্পটির নাম দিয়েছেন ‘জুনায়েদ পাওয়ার লিমিটেড’। 
তিনি তার এই উদ্ভাবনকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান। কিন্তু কীভাবে? কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র আবিষ্কার করলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতাই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তার। তাই তিনি আর এগুতে পারছেন না। যদি সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসে তাহলেই তার এই উদ্ভাবন হয়তো দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে।
জালাল জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা করে ফ্লাই হুইল এনার্জি, ইলেক্ট্রিক্যাল এনার্জি, রেশিও এনার্জি, এসেন্ট অ্যান্ড ডিসেন্ট এনার্জি, লেভেল এনার্জি, গ্রেভিশন এনার্জি অ্যান্ড মেকানিক্যাল এনার্জিসহ বিভিন্ন প্রকারের শক্তিকে সমন্বয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেছেন। তিনি তার নাম দিয়েছেন ‘ফেরাল জিম’ । ‘উদ্ভাবিত ফেরাল জিম’ যন্ত্র দিয়ে বাহিরের যে কোন শক্তি জ্বালানি হিসাবে ১০ মিনিট ব্যবহার করলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি পূণঃচক্রাকার (রি-সাইকেল) পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ উক্ত মেশিনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হবে। আর অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ বিক্রয় করা যাবে। আবিষ্কৃত মেশিনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সরবরাহ রেশিও ৩ অনুপাত ২। উদ্ভাবিত যন্ত্রটি সম্পূর্ণ বায়ু ও শব্দ দূষণমূক্ত এবং পরিবেশ বান্ধব বলে জানিয়েছেন জালাল উদ্দিন।
তিনি জানান, প্রতি ৫ (পাঁচ) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যন্ত্রটি তৈরিতে খরচ পড়বে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মেশিনের ওয়েস্টেজ খরচ এবং পরিচালনার খরচ বাদ দিয়ে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ মাত্র ২০ (কুড়ি) পয়সা।
জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গ্যাস, ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল, কয়লা, সোলার, জলবিদ্যুৎ এবং পরমাণু ইত্যাদি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের খরচের চেয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কম। উদ্ভাবিত বিদ্যুতে উৎপাদন যন্ত্রে কোনো প্রকারের ঝুঁকি নেই। কেননা ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক জাতীয় কোন প্রকারের পদার্থ মেশিনের ভিতরে এবং বাইরে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি। প্রযুক্তির মেশিনে মেকানিক্যালে ফ্রিকশন লস ধরা হয়েছে বি-বেল্ট ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, চেইন পিনিয়নে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্পার গিয়ারে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ। প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয় ১ দশমিক ৮ এইচপি (হর্স পাওয়ার) অথবা শূন্য দশমিক ৭১৯ থেকে ১ দশমিক ২৬৯ কেএন (কিলো নিউটন) রোটেশন প্রেসার (ঘূর্ণায়ন চাপ)। 
উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মেশিনে সমস্ত প্রকারের ফ্রিকশন লস বাদে প্রতি কিলোওয়াট ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য শক্তির যোগান দেওয়া হয়েছে ১২ এইচপি। প্রতি ৫ (পাঁচ) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য অলটারনেটর লাগবে ৯৫০০ কিলোওয়াট। অলটারনেটরের দক্ষতা ৯০ শতাংশ হিসাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৮৫৫০ কিলোওয়াট। আবিষ্কৃত মেশিনে ড্রাইভিং এর জন্য ৫০০ হর্স পাওয়ারের ২টি মটর অটো টাইমারে ১০ ঘন্টা করে চলমান থাকবে। এইভাবে ফেরাল জিম যন্ত্রটি ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে থাকবে। উদ্ভাবিত মেশিনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ পূণঃচক্রাকার (রি-সাইকেল) ভাবে ২টি মটরের জন্য জ্বালানী হিসাবে বিদ্যুৎ থাকবে ৩৫৫০ কিলোওয়াট। সরবরাহ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে ৫ হাজার কিলোওয়াট (৫ মেগাওয়াট)। এই প্রযুক্তিতে ৫ (পাঁচ) মেগাওয়াট যন্ত্রটি স্থাপন করতে জায়গা লাগবে ২৮৮ বর্গফুট।
জালাল আরও জানান, আবিষ্কৃত প্রযুক্তির মেশিনের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ‘জুনায়েদ পাওয়ার লিমিটেড’ কোম্পানিটি বর্তমান ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে ২৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মেশিনের কাজ শেষ করেছে। আর্থিক সমস্যার কারণে উক্ত মেশিনে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ বা লোড হচ্ছে এবং মেশিনটি বর্তমানে চলমান আছে।
নিরাপত্তা সহ বাংলাদেশ সরকার এই বিদ্যুৎ উতপাদন যন্ত্রে আর্থিক সহায়তা দিলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণ করে বিদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করা যাবে বলে জানান প্রযুক্তির উদ্ভাবক জালাল উদ্দিন।